মোঃ রেজাউল করিম, স্টাফ রিপোর্টার।
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিল্লোল চাকমার নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শান্তিগঞ্জ বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
র্যালি শেষে বক্তব্যে ইউএনও হিল্লোল চাকমা বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার পাশাপাশি নিজ নিজ বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার, পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। কোথাও পানি জমে থাকলে দ্রুত তা অপসারণ করতে হবে এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শান্তিগঞ্জ বাজারের বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে। প্রত্যেক দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে।
এ সময় বাজারের ড্রেন ও ফুটপাত দখল করে অবৈধভাবে স্থাপনা কিংবা দোকান বসানো ব্যক্তিদের উদ্দেশে ইউএনও বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে নিজ দায়িত্বে ও নিজ খরচে এসব অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ছাড়া শান্তিগঞ্জ বাজারের যানজট নিরসনে সিএনজি ও অটোরিকশা যত্রতত্র পার্কিং না করার জন্য চালকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। নির্ধারিত স্থান ছাড়া রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন ইউএনও।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাড়ি, দোকান, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। বিশেষ করে পরিত্যক্ত পাত্র, টায়ার, ড্রাম, ডাবের খোসা ও অন্যান্য স্থানে পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতার মাধ্যমেই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব।
অভিযানে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা তাছলিমা আক্তার লিমা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সন্ধীপ বিশ্বাস, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কামরুল হাসান, উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা শাহীনুর রহমান ও শান্তিগঞ্জ থানার এসআই নুর উদ্দিনসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারী, শান্তিগঞ্জ বাজার কমিটির সদস্য এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া অভিযানে প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারী, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।