মোঃ বাবুল হোসেন স্টাফ রিপোর্টার সাভার আশুলিয়া
ঢাকার আশুলিয়ায় একটি বাড়ির বাইরে থেকে তালাবদ্ধ একটি কক্ষের ভেতর থেকে তরিকুল ইসলাম (৩৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে ইয়ারপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইস্টার্ন হাউজিং চেতনা সংস্থা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আব্দুল আউয়াল কাজীর মালিকানাধীন পাঁচতলা ভবনের নিচতলার একটি কক্ষ বাইরে থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় ছিল। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা খুলে কক্ষের ভেতর থেকে তরিকুল ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল বলেন, লাশ ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এদিকে, কক্ষটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকা অবস্থায় ভেতর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাড়ির মালিক আব্দুল আউয়াল কাজীর ভূমিকা এবং ঘটনার সময় তিনি কোথায় ছিলেন, তা নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। তবে এ বিষয়ে বাড়ির মালিকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আরও অভিযোগ করেন, ওই এলাকায় চেতনা মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভের গ্রাহকদের কাছ থেকে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা রয়েছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠার কথাও তারা জানান।
এ ছাড়া জামগড়া এলাকার পল্লী চিকিৎসক মোশাররফ হোসেনের ১৩ লাখ টাকাসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ইদ্রিস হুজুর নামে এক ব্যক্তির নামও স্থানীয়দের আলোচনায় এসেছে বলে তারা দাবি করেন। এসব ঘটনার সঙ্গে একটি চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা। তাদের কেউ কেউ ওই চক্রের সঙ্গে কাজী আব্দুল আউয়ালের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সঙ্গে অভিযোগগুলোর বিষয়ে কাজী আব্দুল আউয়ালের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
তরিকুল ইসলামের মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।