মোঃ রাব্বী ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলায় স্বামীর অনুপস্থিতিতে ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি করে দ্বিতীয় স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বামী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত স্ত্রী ও তার সহযোগীরা এই চুরির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে একে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক দাবি করেছেন।
স্থানীয় ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৭ বছর আগে তারাকান্দা উপজেলার পূর্ব পাওলী গ্রামের মৃত কছিম উদ্দিনের ছেলে মো. রমজান আলী (৫২) হালুয়াঘাট উপজেলার বাঘাইতলা গ্রামের মৃত গাজীপুর রহমানের মেয়ে মোছা. আকলিমা খাতুনকে (৪০) পারিবারিকভাবে বিয়ে করেন। রমজান আলীর প্রথম স্ত্রী অসুস্থ থাকায় এই দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছিল। এই দম্পতির সংসারে আমির হামজা (১০) ও জুনাঈদ (৮) নামের দুটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০২৩ সালের ৮ জুন সকালে রমজান আলী বাড়িতে না থাকার সুযোগে স্ত্রী আকলিমা খাতুন তার পূর্বের সংসারের বড় মেয়ে মিতু আক্তার, জামাতা ফিরোজ আলী এবং ছোট মেয়ে লিমা আক্তারের পরামর্শে ঘর থেকে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যান। রমজান আলীর প্রথম সংসারের ছোট মেয়ে নিনা আক্তারের ঘরে থাকা গরু বিক্রির নগদ ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দেড় ভরি স্বর্ণালংকার (যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা) সহ মোট ৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর সন্ধান না পেয়ে এবং বিষয়টি জানতে পেরে রমজান আলী সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অন্যদিকে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা চুরির সমস্ত অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন গৃহবধূ আকলিমা খাতুন।
তার ভাষ্যমতে, পারিবারিক বিরোধ এবং বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করতেই তিনি সন্তানদের নিয়ে ঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। তাকে এবং তার স্বজনদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মিথ্যা অভিযোগ সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ভুক্তভোগী রমজান আলী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন, আর অভিযুক্ত আকলিমা খাতুনও এই হয়রানি থেকে মুক্তি ও ন্যায়বিচারের আকুতি জানিয়েছেন।