৪৪৪ মণ্ডপে উৎসবের আয়োজন, চলছে প্রতিমায় রং-তুলি ও আলোকসজ্জা
কুলেন্দু শেখর দাস, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজাকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। জেলার ১২টি উপজেলায় ৪৪৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে চলছে রং-তুলি, মণ্ডপ ও তোরণ নির্মাণ এবং আলোকসজ্জার কাজ।
আসন্ন দুর্গোৎসবকে ঘিরে জেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকায় পূজামণ্ডপগুলোতে সাজসজ্জার কাজ চলছে জোরেশোরে। প্রতিমা তৈরির কারিগরদের ব্যস্ততাও বেড়েছে। তবে জনবল সংকট ও মজুরি তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেক কারিগরকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় সার্বজনীন ও ব্যক্তি উদ্যোগে মোট ৪৪৪টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পূজা উপলক্ষে প্রতিটি মণ্ডপে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি সিসি ক্যামেরা, জেনারেটর ও নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দল রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের সমাপ্তি হবে। হিন্দু শাস্ত্রমতে, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোটকে এবং গমন নৌকায়।
সুনামগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য পরিচিত। দুর্গাপূজা, ঈদুল ফিতরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে জেলার হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে উৎসব পালন করে আসছেন।
দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও নাশকতা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রতিমা তৈরির সময় থেকেই বিভিন্ন পূজামণ্ডপের ওপর নজরদারি রাখা হচ্ছে। পূজার সময় সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি মোবাইল টিম মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
সুনামগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট গৌরাঙ্গ পদ দাস বলেন, দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিপ্রেশ কুমার রায় বাপ্পীও পূজামণ্ডপগুলোর প্রস্তুতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূজা উপলক্ষে নাশকতা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রোধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে নজরদারি ও মোবাইল টিমের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে আজানের সময় পূজামণ্ডপের মাইক বন্ধ রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহযোগিতার মধ্য দিয়ে সুনামগঞ্জে এবারও শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে এবং বিজয়া দশমীতে নিরাপদে প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।