জামাল হোসাইন জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে মানবপাচারের মামলায় ভাই-বোন গ্রেপ্তারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে ওই নারীকে দালাল চক্রের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, সিলেট জজ কোর্টের এক আইনজীবী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার পক্ষে ভিন্ন তথ্য তুলে ধরে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।
গ্রেপ্তারকৃত নারীর নাম শুবি বেগম। বাড়ি জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের সাদীপুর গ্রামে।
জগন্নাথপুর প্রতিদিনের খবর কী বলছে:
গত ২ অক্টোবর “জগন্নাথপুর প্রতিদিন” এ প্রকাশিত খবরে বলা হয়, মানবপাচারের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় শুবি বেগমসহ তার ভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। খবরে ইঙ্গিত করা হয় তিনি মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত।
আইনজীবীর পাল্টা বক্তব্য:
তবে এই খবরের পর সিলেট জজ কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক এপিপি অ্যাডভোকেট ইয়াসিন খান তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি বিস্তারিত পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি দাবি করেন,
শুবি বেগম ভুক্তভোগী, অভিযুক্ত নন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, শুবি বেগমের দুই ভাইকে তারই নিকটাত্মীয় একটি দালালচক্র ইউরোপ পাঠানোর প্রলোভনে সৌদি আরব হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যায়। সেখানে তাদের আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়। ভিডিও কলে এক ভাইয়ের আঙুল কেটে দেওয়ার মতো নির্মম ঘটনাও ঘটে এবং মুক্তিপণের নামে প্রায় ৭০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
অ্যাডভোকেট ইয়াসিন খান লেখেন, “সকল প্রমাণ, ব্যাংকে লেনদেনের প্রমাণ ও নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও দেখে একজন আইনজীবী হয়েও চোখের পানি ধরে রাখা কষ্টকর ছিল।”
তিনি আরও জানান, শুবি বেগমের অভিযোগের ভিত্তিতে সিলেটের তরুণ আইনজীবী ইফতেখার আলম শোয়াইবের মাধ্যমে মানব পাচার ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করা হয়। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে PBI-কে তদন্তের নির্দেশ দেন।
অ্যাডভোকেট ইয়াসিনের দাবি, PBI তদন্তে সাক্ষ্য দিতে গিয়েই পাচারকারী চক্রের করা কাউন্টার মামলায় হয়রানির শিকার হয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন এই নারী।
প্রকৃত সত্য কী?
এ ঘটনায় এখন দুটি বিপরীত চিত্র সামনে এসেছে। একদিকে পুলিশের গ্রেপ্তার ও প্রাথমিক মামলা, অন্যদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের ৭০ লক্ষ টাকা খোয়ানো ও লিবিয়ায় নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, প্রকৃত সত্য উদঘাটনের জন্য মাননীয় আদালত কর্তৃক PBI-কে দেওয়া তদন্তের রিপোর্টই হবে মূল চাবিকাঠি। ব্যাংক লেনদেন, মোবাইল কল রেকর্ড এবং লিবিয়া থেকে পাঠানো নির্যাতনের ভিডিওগুলো ফরেনসিক পরীক্ষা করলেই কে ভুক্তভোগী আর কে অপরাধী তা স্পষ্ট হবে।
এ বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থা PBI ও জগন্নাথপুর থানা পুলিশের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংবাদমাধ্যমের সত্যনিষ্ঠ ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদন কামনা করেছেন এলাকাবাসী।