নিজস্ব প্রতিবেদক, আশুলিয়া: মোঃ বাবুল হোসেন
ঢাকার আশুলিয়ায় পূর্ববিরোধ ও স্থানীয় বিরোধকে কেন্দ্র করে পৃথক হামলার ঘটনায় শ্রমিক দল নেতার বাসায় গুলিবর্ষণ, ভাঙচুর ও কয়েকজনকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে কাঠালতলা, চিত্রশাইলের মানিকগঞ্জ পাড়া ও কামরুলের মোড় এলাকায় পৃথকভাবে এসব হামলার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় জব্বার নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ববিরোধের জেরে একদল লোক আশুলিয়া থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের বাসায় হামলা চালায়। এ সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাসায় গিয়ে গুলিবর্ষণ ও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রবিউল ইসলাম।
হামলার একপর্যায়ে বাসার সিঁড়ির নিচে হামিম নামে এক যুবককে কুপিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রাখা হয় বলে স্থানীয়রা জানান। পরে ইয়ারপুর ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সহসভাপতি সাঈদ হাসান মিঠুকেও মাথা ও বাম হাতে কুপিয়ে এবং ডান হাতে গুলি করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় নারীসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও স্থানীয়দের দাবি। তবে আহতের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও সবার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, হামলার একপর্যায়ে পুলিশের সাইরেনের শব্দ শুনে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যান।
আশুলিয়া থানা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘হাবিব ও হাসান বাহিনীর লোকজন আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার বাসায় এসে গুলি চালায় ও ভাঙচুর করে। আমাকে না পেয়ে আমার কর্মী হামিমকে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রেখে যায়। আমি মাদকের বিরুদ্ধে মিছিল করায় তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলা চালিয়েছে।
তবে রবিউল ইসলামের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. হাবিব। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘এই হামলার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। বরং তারা আমার দুই ছেলেকে মারধর করেছে। আমি দূরে অবস্থান করায় ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি দেখতেও পারিনি। আমি যদি সেখানে গিয়ে থাকি, তারা যদি তা প্রমাণ করতে পারে, তাহলে আমার বিরুদ্ধে যে শাস্তি দেওয়া হবে, আমি তা মাথা পেতে নেব।
জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ রাশেদ বলেন, ‘পূর্বশত্রুতা ও স্থানীয় বিরোধের জেরে শ্রমিক দল নেতার বাসায় হামলার ঘটনায় জব্বার নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ইন্টারনেট ব্যবসা নিয়ে ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলার প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়গুলো তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।