মোঃ রাব্বি ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী স্লুইস গেট এলাকা থেকে চালের ড্রামে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুরের গাছা থানাধীন বোর্ডবাজার এলাকা থেকে এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা শামীম মিয়াকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।আজ রবিবার পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই জানায়, গত ২৩ সেপ্টেম্বর বেগুনবাড়ী স্লুইস গেটের পানিতে ভাসমান একটি চালের ড্রাম থেকে চটের বস্তায় মোড়ানো এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির সূত্র ধরে নিহতের পরিবার লাশটি নিখোঁজ অটোরিকশা মালিক ও স্বর্ণ কারিগর নিরঞ্জন ধরের (৫৪) বলে শনাক্ত করে।গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত শামীম মিয়া হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার দাবি, একটি স্পর্শকাতর ভিডিও ক্লিপকে কেন্দ্র করে নিরঞ্জন ধর তাকে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিলেন এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করছিলেন। গত ২১ সেপ্টেম্বর পুনরায় টাকার জন্য চাপ দিলে উভয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়।
একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে শামীম ঘরের ভেতর থাকা পাটার শিল ও বঁটি দিয়ে নিরঞ্জনের ওপর উপর্যুপরি আঘাত চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিরঞ্জনের মৃত্যু হয়।পিবিআই আরও জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর আলামত লোপাট ও লাশ গুমের উদ্দেশ্যে মরদেহটি চটের বস্তায় বেঁধে চালের ড্রামে ঢোকানো হয়। পরে একটি ইজিবাইক ভাড়া করে ড্রামটি স্লুইস গেটের পানিতে ফেলে দিয়ে শামীম গাজীপুরে গিয়ে আত্মগোপন করে। আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ভাড়া বাসা থেকে রক্তমাখা শিল ও বঁটি উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের পূর্বক আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।