জেলা স্টাফ রিপোর্টার, পাবনা: মাফরুদুর রহমান মুরাদ
পাবনার ঈশ্বরদীতে অর্থের অভাবে একটি আদিবাসী পল্লীর একমাত্র শিশু শিক্ষাকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় শিশুদের শিক্ষাজীবন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। উপজেলার মারমী আদিবাসী পল্লীতে অবস্থিত সেন্ট ফিলিপস শিশু শিক্ষাকেন্দ্রটি অর্থ সংকটের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজ পল্লীতে শিক্ষাকেন্দ্রটি চালু থাকায় শিশুরা সহজেই সেখানে গিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করতে পারত। কিন্তু শিক্ষাকেন্দ্রটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখন তাদের প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার পথ হেঁটে পাশের গ্রামের বিদ্যালয়ে যেতে হচ্ছে।
দূরের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কষ্ট এবং পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে অনেক শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। এতে তাদের মধ্যে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, পরিবারের চরম আর্থিক সংকটের কারণে অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে না পাঠিয়ে নিজেদের সঙ্গে মাঠের কৃষিকাজে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে এসব শিশু একদিকে যেমন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে অল্প বয়সেই শ্রমে যুক্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, শিক্ষাকেন্দ্রটি পুনরায় চালুর বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ বা সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়া যায়নি বলে তাঁদের দাবি।
স্থানীয়দের মতে, অনগ্রসর এই জনগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে দ্রুত শিক্ষাকেন্দ্রটি পুনরায় চালু করা প্রয়োজন। এ জন্য সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।
শিক্ষাকেন্দ্রটি দ্রুত চালু করা না হলে মারমী আদিবাসী পল্লীর অনেক শিশুই প্রাথমিক শিক্ষা থেকে ঝরে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা করছেন স্থানীয় অভিভাবক ও জনপ্রতিনিধিরা।