মো. রেজাউল করিম, শান্তিগঞ্জ (সুনামগঞ্জ)
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরে সিলেট-সুনামগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার অংশ চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ ধীরগতিতে চলায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও পথচারীরা। নির্মাণাধীন সড়কের বিভিন্ন স্থানে বালু, মাটি ও নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকায় যানবাহন চলাচলের সময় ধুলাবালি উড়ছে। এতে সড়কের আশপাশের দোকানপাট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়িতে ধুলার আস্তরণ পড়ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট এলাকা থেকে উজানীগাঁও শিল্প ও কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক দুই লেন থেকে চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৫ কোটি ৯৩ লাখ ২৮ হাজার ২৫২ টাকা। নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এম বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড। ২০২৫ সালের জুনে চুক্তি সম্পাদনের পর ওই বছরের অক্টোবর থেকে কাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে মাটি খোঁড়া, বালু ও খোয়া রাখা এবং নির্মাণকাজের বিভিন্ন উপকরণ ছড়িয়ে রয়েছে। যানবাহন চলাচলের সময় এসব শুকনো মাটি ও বালু বাতাসে উড়ে আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। এতে পথচারীদের পাশাপাশি সড়কের পাশে থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোরও দুর্ভোগ হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থার জন্য চার লেন প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়ন চান তারা। তবে নির্মাণকাজ চলাকালে ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত পানি ছিটানো এবং পথচারী ও যানবাহনের নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়েও বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রকল্পের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। পরে মে মাসে প্রায় ৫০ শতাংশ ঢালাই ও মাটির কাজ শেষ হওয়ার তথ্য আসে। সর্বশেষ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রকৌশলী জানিয়েছেন, প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অগ্রগতির এই পার্থক্য কাজের ধরন ও পরিমাপ পদ্ধতির কারণে হয়ে থাকতে পারে; প্রকৃত অগ্রগতি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি ও পরিমাপের তথ্য প্রয়োজন।
কাজের বর্তমান ধীরগতির বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রকৌশলী সাবিক আল হাসান বলেন, প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটবালি না পাওয়ায় কিছু কাজ বন্ধ রয়েছে। ভিটবালির ব্যবস্থা হলে আবারও পুরোদমে কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি। ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে সড়কে পানি ছিটানোর জন্য পানির গাড়ি রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এর আগে প্রকল্পের কাজে ধীরগতির কারণ হিসেবে বিদ্যুতের খুঁটি অপসারণ, গাছ কাটায় বিলম্ব ও বৃষ্টির বিষয়ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছিল।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরের চার লেন প্রকল্পের কাজ আবারও পুরোদমে শুরু হবে। ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণে নির্মাণাধীন সড়কে নিয়মিত পানি ছিটানোর জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজ চলাকালীন নিয়মিত পানি ছিটানো, সড়কে বালু-মাটি নিয়ন্ত্রণ এবং পথচারী ও যানবাহনের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হোক। এতে একদিকে নির্মাণকাজের অগ্রগতি বজায় থাকবে, অন্যদিকে কমবে স্থানীয়দের দুর্ভোগ।