জেলা স্টাফ রিপোর্টার পাবনা মাফরুদুর রহমান মুরাদ।
পাবনার চাটমোহর উপজেলার ডিবিগ্রাম ইউনিয়নের হোগলবাড়িয়া গ্রামের নারী উদ্যোক্তা শারমিন খাতুন, যিনি বর্তমানে এলাকায় মাল্টা ভাবি নামে পরিচিত,নিজের অদম্য ইচ্ছা ও শ্রমে লিজ নেওয়া জমিতে মাল্টা চাষ করে সফলতার গল্প রচনা করেছেন। একসময় নিজের পা ফেলার মতো নিজস্ব জায়গা না থাকলেও আজ তিনি হয়ে উঠেছেন মাঠের রানী।
যে জমিতে সাধারণ ফসল চাষ করে লাভ করা ছিল এক দুঃস্বপ্ন, সেখানে শারমিন খাতুন লিজের জমিতে মাল্টা চাষের বড় ঝুঁকি নেন। শুরুর দিকে আশেপাশের অনেকেই তাকে নিয়ে অনেক কটাক্ষ করেছিলেন, কিন্তু তিনি দমে যাননি। গত বছর মাল্টা বাগান থেকে ভালো লাভ করার পর,এবার তিনি প্রায় ৪ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন।
তিনি প্রধানত ভিয়েতনামী জাতের মাল্টা চাষ করেন, যা বছরের অধিকাংশ সময় ফলন দেয় এবং যার মিষ্টতা ও রস বেশি হওয়ায় বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়, বাজারে টিকে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে নতুন করে আরও ১ বিঘা জমিতে তিনি অস্ট্রেলিয়ান হলুদ জাতের মাল্টার চারা লাগিয়েছেন।
শারমিন খাতুনের এই বাণিজ্যিক সাফল্যে উপজেলা কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ ও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে পাশে দাঁড়িয়েছে. চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ কুন্তলা ঘোষের মতে, শারমিনের এই সাহসী উদ্যোগ এলাকার কৃষি অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে।
উপজেলা ফল মেলায় তার বাগানের মাল্টা প্রদর্শিত হওয়ার পর এলাকার অনেক সাধারণ কৃষক ও তরুণরা চাকরি পেছনে না ছুটে এই ধরণের উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত হচ্ছেন।
শারমিন খাতুন জানান, বাজারে যখন তার উৎপাদিত ফলের ভালো দাম ও কদর পাওয়া যায়, তখন তার সব ক্লান্তি মুছে যায় এবং এলাকার মানুষ যখন তাকে ভালোবেসে মাল্টা ভাবি বলে ডাকে, তখন তার দারুণ অনুভূতি হয়।