জেলা স্টাফ রিপোর্টার পাবনা: মাফরুদুর রহমান মুরাদ।
ঘন ঘন লোডশেডিং, সুতা ও রঙের অতিরিক্ত দাম এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারনে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্পের আয় মারাত্মকভাবে কমেছে। বিশেষ করে পাবনা ও সিরাজগঞ্জের মতো প্রধান তাঁত প্রধান অঞ্চলগুলোতে এই সমস্যা প্রকট রূপ ধারণ করেছে।
বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তাঁত কারখানাগুলো দিনে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার বেশি চালানো সম্ভব হচ্ছে না। আগে যেখানে একজন শ্রমিক সপ্তাহে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা আয় করতে পারতেন, এখন উৎপাদন কমে যাওয়ায় তা নেমে এসেছে মাত্র ২ থেকে ৩ হাজার টাকায়।
পাবনা ও সিরাজগঞ্জের প্রায় সাড়ে চার লাখ তাঁতের মধ্যে বিদ্যুৎচালিত পাওয়ারলুম ও চিত্তরঞ্জন তাঁতসহ প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ তাঁত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে প্রায় পৌনে দুই লাখ তাঁতশ্রমিক সম্পূর্ণ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এবং অনেকেই পেশা বদলাতে বাধ্য হচ্ছেন।
এনায়েতপুর, শাহজাদপুর, বেলকুচি ও আতাইকুলার মতো ঐতিহ্যবাহী কাপড়ের হাটগুলোতে একসময় সপ্তাহে ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার বেচাকেনা হতো। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং ভারত থেকে পাইকারি ক্রেতা কমে যাওয়ায় লেনদেন প্রায় ৭০ শতাংশ কমে ১০০ থেকে ১৫০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় চড়া দামে ডিজেল কিনে জেনারেটর চালাতে হচ্ছে, যার ফলে জ্বালানি ও উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
তাঁতি ও ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ এবং সরকারি নীতিগত সহায়তা না দিলে এই শিল্প পুরোপুরি ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ তাঁত বোর্ড সোলার প্যানেল স্থাপনসহ জ্বালানি সাশ্রয়ী প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।