জেলা স্টাফ রিপোর্টার পাবনা মাফরুদুর রহমান মুরাদ।
পাবনা সদর উপজেলায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তের বহুতল বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। আজ শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জুমার নামাজ শেষে দোগাছী ইউনিয়নের কুলুনিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কামরুন্নাহার কলি নামের ১০ বছর বয়সী এক তৃতীয় শ্রেণীর শিশুশিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের সাত দিন পর গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ির পাশের একটি পুকুর বা ডোবা থেকে তার বস্তাবন্দী গলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।এই বর্বরতার ঘটনায় পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত স্থানীয় মুদি দোকানদার মো. মোস্তফা কামাল (৫৫) এবং অপর সহযোগী ইয়াছিন আলীকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে যে, শিশুটিকে দোকানের পেছনে নিয়ে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় এবং অপরাধ আড়াল করতে লাশ বস্তায় ভরে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। এমনকি তারা নিজেরাও শিশুটিকে খোঁজার নাটক করেছিলেন।
আসামিদের এই জঘন্য অপরাধের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে আজ জুমার নামাজ শেষে শত শত এলাকাবাসী মিছিল নিয়ে প্রধান আসামি মোস্তফা কামালের বাড়িতে চড়াও হয়। উত্তেজিত জনতা বাড়ির দেয়াল, দরজা এবং জানালার গ্রিল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের বক্তব্য—তারা এই ধর্ষক ও হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান এবং আসামির কোনো চিহ্ন এলাকায় রাখতে চান না।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিল। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষের ক্ষোভের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশ আগেই ওই বাড়ির পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেয় এবং কিছু মালামাল সংরক্ষণ করতে সক্ষম হয়।
বর্তমানে এই আলোচিত হত্যা মামলার তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।মানবাধিকারকর্মীরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন