বাবুল হোসেন সাভার-আশুলিয়া প্রতিনিধি:
সাভারের আশুলিয়ায় প্রায় এক বছর একসঙ্গে সংসার করার পর সাথী (২২) নামে এক তরুণীকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করার অভিযোগ উঠেছে শাহিন নামে এক অ্যাডভোকেটের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তাদের বিয়ের কাবিননামার বৈধতা নিয়েও দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। অভিযুক্ত শাহিন কাবিননামাটি ভুয়া বলে দাবি করলেও সাথীর দাবি, কাবিননামাটি বৈধ এবং সেখানে দেনমোহর হিসেবে ১০ লাখ টাকা উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনাটি আশুলিয়ার নরসিংপুর হিন্দুপাড়া এলাকার বলে জানা গেছে।
সাথীর অভিযোগ, শাহিনের সঙ্গে পরিচয় ও সম্পর্কের একপর্যায়ে তারা একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। এরপর প্রায় এক বছর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করেন। এ সময় তাদের মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্কও ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
সাথীর ভাষ্য, পরবর্তীতে তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হলে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে শাহিন তাকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করতে শুরু করেন। একই সঙ্গে তাদের বিয়ের কাবিননামাটিকেও ভুয়া বলে দাবি করা হয়।
সাথী বলেন, দীর্ঘদিন একসঙ্গে সংসার করার পর তাকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করায় তিনি সামাজিক ও পারিবারিকভাবে সমস্যায় পড়েছেন। নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচারের জন্য তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তিনি দাবি করেন, তাদের বিয়ের কাবিননামায় দেনমোহর হিসেবে ১০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বর্তমানে ওই কাবিননামার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
এ বিষয়ে প্রকৃত তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট কাজি অফিসের রেজিস্টার, বিয়ে নিবন্ধনের নথি এবং কাবিননামার মূল কপি যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিয়ের সময় উপস্থিত সাক্ষী, সংশ্লিষ্ট কাজি এবং উভয় পক্ষের কাছে থাকা নথিপত্র যাচাই করলে কাবিননামাটি আদৌ নিবন্ধিত হয়েছিল কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।
অভিযোগের বিষয়ে অ্যাডভোকেট শাহিনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
এ ঘটনায় সাথী বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত, নিজের আইনগত অধিকার নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কাবিননামার সত্যতা ও বিয়ের বৈধতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন তিনি।