সাভার (আশুলিয়া) প্রতিনিধি: মোঃ বাবুল হোসেন
ঢাকার আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারী, এক পুরুষ ও সদ্য ভূমিষ্ঠ এক নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে হাজী হযরত আলীর চারতলা ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই কক্ষ থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তালাবদ্ধ কক্ষটি খুলে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, নিহত পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে, তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ওই কক্ষের দরজা-জানালা সাধারণত বন্ধ থাকত। সেখানে এক দম্পতি নতুন করে ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন বলে জানা গেছে। তবে নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
ঘটনাস্থলে খবর পেয়ে সিআইডির ফরেনসিক টিম উপস্থিত হয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে। এ সময় ঢাকা উত্তর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও আশুলিয়া থানা পুলিশের সদস্যরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, বাড়ির মালিক হাজী হযরত আলীর কাছে ভাড়াটিয়াদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে ভাড়াটিয়া ফরম, পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত নিহতদের পরিচয় ও মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
আশুলিয়া থানার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) তালেব জানান, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তিনজনের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।
ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।