দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভার আটটি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ও পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দ। রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল ৪টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত তাঁরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে পূজার সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উৎসবের পরিবেশ সম্পর্কে খোঁজখবর নেন নেতৃবৃন্দ। এ সময় পূজামণ্ডপের আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তাঁরা।
পরিদর্শন করা পূজামণ্ডপগুলো হলো—দিরাই বাজারের শ্রীশ্রী জগন্নাথ জিউর মন্দির, মজলিশপুরের রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা মণ্ডপ, শিব সংঘ শারদীয় দুর্গাপূজা মণ্ডপ, শ্রীশ্রী কালীমন্দির পূজামণ্ডপ, হারানপুর-আনোয়ারপুর সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপ, শুকুরনগর মহাদেব গাছতলা সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা মণ্ডপ, হারানপুর সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপ এবং দিরাই সরকারবাড়ির সার্বজনীন শারদীয় দুর্গাপূজা মণ্ডপ।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক নারায়ণ দাস, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক মনোজ কান্তি পুরকায়স্থ, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক বকুল বণিক, সদস্যসচিব বিশ্বজিৎ রায়, রবিন দাস, সুদীপ কুমার দাস, হিল্লোল পুরকায়স্থ, দীপংকর বণিক, দিরাই সমাজসেবা ফাউন্ডেশনের সাবেক সভাপতি ও পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য দেবাশীষ দাস দেবল এবং সঞ্জয় দাসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক নারায়ণ দাস বলেন, “দুর্গোৎসব সবার অংশগ্রহণে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মিলনমেলায় পরিণত হোক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যেন নিরাপদে ও আনন্দের সঙ্গে উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক মনোজ কান্তি পুরকায়স্থ বলেন, পূজার আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে উৎসব সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সবার দায়িত্ব।
পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক বকুল বণিক ও সদস্যসচিব বিশ্বজিৎ রায় বলেন, পৌরসভার প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখতে তাঁরা কাজ করছেন। আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতায় দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে নেতৃবৃন্দ শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ও সম্প্রীতি সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎসব উদ্যাপনে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।