হুমায়ুন কবির দুলাল কটিয়াদী কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জ–ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচল, মহাসড়কের পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের জায়গা দখল করে স্ট্যান্ড স্থাপন, নম্বর প্লেট না থাকা, চালকদের অদক্ষতা ও বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্সের ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এসব কারণে মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি পথচারীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম নিয়েও নানা প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কিশোরগঞ্জ–ভৈরব মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা দখল করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। এসব স্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানামা, অটোরিকশা দাঁড় করিয়ে রাখা এবং যানবাহনের জটলা তৈরির কারণে মহাসড়কের পাশ দিয়ে পথচারীদের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে পথচারীদের মূল সড়কের কাছাকাছি দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এ ছাড়া মহাসড়কে চলাচলকারী অনেক সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নম্বর প্লেট না থাকার অভিযোগ রয়েছে। কিছু চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই এবং অনেকে পর্যাপ্ত দক্ষতা ছাড়াই যানবাহন চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধন, নম্বর প্লেট, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন ব্যক্তিরা।
দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের সঙ্গে একই মহাসড়কে অটোরিকশার চলাচল, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং সড়কের পাশে স্ট্যান্ডের কারণে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে সড়কের পাশে যানবাহনের জটলা ও পথচারীদের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রাণঘাতী ঘটনার কথাও সামনে এসেছে। গত ৩০ আগস্ট ২০২৬ কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের তেভাগা এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশুসহ তিনজন নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়।
এর আগে ২ জুন ২০২৬ রাতে কিশোরগঞ্জ–ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের কুলিয়ারচর উপজেলার মধূয়ারচর এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় হতাহতের খবর প্রকাশিত হয়। একই রাতে কুলিয়ারচরে পৃথক আরেকটি সড়ক দুর্ঘটনায়ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়।
এসব দুর্ঘটনার প্রতিটি কারণ আলাদাভাবে তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তবে ধারাবাহিক প্রাণহানির ঘটনা মহাসড়কে নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে কার্যকর নজরদারির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
প্রশ্ন উঠছে, মহাসড়কের পাশে সওজের জায়গা দখল করে স্ট্যান্ড পরিচালিত হলে তা উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা কী? নম্বর প্লেটবিহীন যানবাহন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রহীন অটোরিকশা এবং লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও জানতে চান স্থানীয়রা।
মহাসড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মিত নজরদারি, আইনানুগ ব্যবস্থা ও দৃশ্যমান অভিযান কতটা কার্যকর, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাইওয়ে পুলিশ, সওজ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের বক্তব্য জানা প্রয়োজন।
সচেতন মহলের দাবি, মহাসড়কের পাশে সওজের জায়গা দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্ট্যান্ড উচ্ছেদ, যানবাহনের নিবন্ধন ও নম্বর প্লেট যাচাই, চালকদের বৈধ লাইসেন্স নিশ্চিত করা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। একই সঙ্গে পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জায়গা নিশ্চিত করা এবং মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সড়ক নিরাপত্তা শুধু দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয় নয়; বরং দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি করে এমন পরিস্থিতি আগেই নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন। তাই কিশোরগঞ্জ–ভৈরব মহাসড়কে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারি, আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এখন সময়ের দাবি।