স্টাফ রিপোর্টার সাভার আশুলিয়া: মোঃ বাবুল হোসেন
ঢাকার আশুলিয়ায় পথরোধ করে মারধরের চেষ্টা ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আশুলিয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন দৈনিক বাংলাবাজার পত্রিকার আশুলিয়া প্রতিনিধি ও বাংলা পোস্টের সাভার সংবাদদাতা সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আশুলিয়ার বাইপাইলের শান্তিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এ ঘটনায় জামাল হোসেন মুকুল, তাঁর স্ত্রী মোছা. আলো বেগম (৪০) এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানায় করা জিডি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে মোটরসাইকেলে করে বাসায় ফেরার পথে শান্তিনগর এলাকায় সিদ্দিকের বাড়ির সামনে পৌঁছালে একদল ব্যক্তি তাঁর পথরোধ করেন। এ সময় তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারধরের চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম প্রধানের দাবি, এলাকাটি নির্জন হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি সিদ্দিকের বাড়িতে আশ্রয় নেন। তাঁর চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন বেরিয়ে এলে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যান। এ সময় আশপাশে অন্ধকারে আরও কয়েকজন সশস্ত্র অবস্থায় ছিলেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁদের নেতৃত্বে কাউছার নামে এক ব্যক্তি ছিলেন বলে তাঁর দাবি।
জাহাঙ্গীর আলম প্রধান অভিযোগ করেন, জামাল হোসেন মুকুলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগসংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের পর থেকে তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। ওই সংবাদ প্রকাশের জের ধরেই তাঁর ওপর এ ধরনের হামলার চেষ্টা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তিনি।
এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এই সাংবাদিক।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ ফেরদৌস আলী বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি।
তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত এবং এতে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, ‘মোনাভী অল বাংলাদেশ’ নামে একটি কোম্পানির মাধ্যমে বরগুনার আমতলী এলাকা থেকে প্রায় ৩২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে অতীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জামাল হোসেন মুকুলকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং মামলার বর্তমান অবস্থা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।