মোঃ রাব্বি, স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ।
ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জের ঐতিহাসিক লালকুঠি পাক দরবার শরীফে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে শুরু হয়েছে পবিত্র ৩০শে আশ্বিনের ঐতিহাসিক ওরস মোবারক ও মহান ফাতেহা শরীফ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) যোহরের নামাজের পর পবিত্র ঝান্ডা মোবারক উত্তোলনের মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
লালকুঠি পাক দরবার শরীফের বর্তমান গদ্দিনশিন পীর আল্লামা শাহ্ সূফী খাজা মোহাম্মদ সুজাউদ্দৌলা সুজা হুজুর পীর কেবলা জানের তত্ত্বাবধানে ও উপস্থিতিতে পবিত্র ঝান্ডা মোবারক উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আল্লামা শাহ্ সূফী খাজা মোহাম্মদ আলাউল হক অলি হুজুর পীর কেবলা জান এবং শম্ভুগঞ্জি হুজুর পাকের নাতি ও বন্ধু আল্লামা শাহ্ সূফী খাজা ইঞ্জিনিয়ার কে. এম. মোহাম্মদ সামছুদ্দোহা জুনায়েদ হুজুর।
পীর-মাশায়েখদের উপস্থিতিতে পবিত্র ঝান্ডা মোবারক উত্তোলনের সময় হাজারো ভক্তের সমবেত দরুদ শরীফ ও জিকির-আজকারের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো দরবার প্রাঙ্গণ। এ সময় ভক্ত-আশেকান ও জাকেরানদের মধ্যে ধর্মীয় উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আধ্যাত্মিক আবহের সৃষ্টি হয়।
তিন দিনব্যাপী এ ওরস মোবারককে কেন্দ্র করে আসামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসংখ্য নারী-পুরুষ ভক্ত, আশেকান, জাকেরান ও মুরিদান দরবার শরীফে সমবেত হয়েছেন। তাঁদের উপস্থিতিতে দরবার প্রাঙ্গণ পরিণত হয়েছে এক বিশাল আধ্যাত্মিক মিলনমেলায়।
আগত ভক্তদের ইবাদত-বন্দেগি ও অবস্থানের সুবিধার্থে নারী ও পুরুষদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করে তাঁরা শান্তিপূর্ণভাবে জিকির-আজকার, দরুদ শরীফ ও অন্যান্য ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। দৈনন্দিন ব্যস্ততার বাইরে আধ্যাত্মিক প্রশান্তি ও আত্মশুদ্ধির প্রত্যাশায় দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসা ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে দরবার শরীফ।
প্রতি বছর ৩০শে আশ্বিনকে কেন্দ্র করে এ দরবারে ভক্ত-অনুরাগীদের মিলন ঘটে। ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজনকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
আয়োজকদের নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় বিশেষ আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে পবিত্র ৩০শে আশ্বিনের ঐতিহাসিক ওরস মোবারক ও ফাতেহা শরীফের সমাপ্তি ঘটবে। মোনাজাতে দেশ, জাতি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি, কল্যাণ এবং আত্মশুদ্ধি কামনা করা হবে।